মতভিন্নতা থাকবে, আমরা বসবো, আলোচনা করবো ঐক্যকে ধরে রাখতে হবে – তারেক রহমান

প্রকাশিত: ৩:৪১ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২৫

মতভিন্নতা থাকবে, আমরা বসবো, আলোচনা করবো ঐক্যকে ধরে রাখতে হবে – তারেক রহমান

ডায়ালসিলেট ডেস্ক :: বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন,  মতভিন্নতা থাকবে, আমরা বসবো, আলোচনা করবো। আমাদের যেকোনো মূল্যে ঐক্যকে ধরে রাখতে হবে। এমন কিছু আমরা বলবো না, এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবো, যাতে করে কোনোভাবেই স্বৈরাচার আবার এদেশের মানুষের কাঁধে চেপে বসতে না পারে। এই হোক আমাদের প্রত্যাশা ও শপথ।

গতকাল রাজধানীর স্কাই সিটি হোটেলে ১২ দলীয় জোটের উদ্যোগে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের রাজনৈতিক ভিন্ন মত আছে। সবার আদর্শ এক নয়। কিছু কিছু ভিন্নতা আমাদের আছে। কিন্তু একটি জায়গায় আমরা সকলে এক। সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ, দেশের মানুষ এবং গণতন্ত্র।

বিগত ১৫ বছর আমরা রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বহু সহকর্মীকে হারিয়েছি। জুলাই-আগস্টে জনতার যে অভ্যুত্থান হয়েছে, সেই অভ্যুত্থানে আমাদের বহু আপনজন, সহকর্মী ও পরিচিতদের হারিয়েছি। আসুন, যে ঐক্য নিয়ে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছিলাম, সেই ঐক্যেকে আমরা ধরে রাখি। আগামীদিনে ঐক্যেকে বজায় রেখে, ঐক্যকে ধরে রেখে এদেশের মানুষের প্রত্যাশিত গণতন্ত্রকে আমরা প্রতিষ্ঠিত করবো, এদেশের মানুষের প্রত্যাশিত সংস্কার প্রক্রিয়া আমরা সকলে মিলে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবো। এটি হোক আমাদের শপথ এবং প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, আমরা সেই স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আড়াই বছর আগে সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আমরা উল্লেখ করেছিলাম, এই ক্ষেত্রে পরিবর্তন হওয়া উচিত। দুঃখজনকভাবে আমরা দেখছি, একটি পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে। সংস্কার এবং নির্বাচনকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে। গণতন্ত্র বলতে একজন সাধারণ মানুষের কাছে কি বোঝা যায়? এক কথায়, নিরপেক্ষ নির্বাচন। নির্ভয়ে ভোট দেয়ার যে পদ্ধতি, এটিকেই গণতন্ত্র বলি আমরা। এই ব্যবস্থাকে, সংস্কার এবং নির্বাচনকে মুখোমুখি করে দেয়া হচ্ছে। আমি বলেছি কেউ কেউ বলছেন, সংস্কার শেষ হবে তারপরে নির্বাচন হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, যেটা শেষ হয়ে যায়, সেটা তো সংস্কার হতে পারে না। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। যদি কোনো একটা বিষয় শেষ হয়ে যায়, সেটি সংস্কার নয়। কাজেই সংস্কার শেষ হয় না, সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া।

রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ৫ই আগস্ট এদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের অভ্যুত্থানে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে এবং রাজনীতির চিত্রের পরিবর্তন হয়েছে। সাধারণ মানুষ দেখতে চায়, তার প্রিয় মাতৃভূমি পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। আর এখন থেকে আড়াই বছর আগে দেশের মানুষের ঘাড়ে পলাতক স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ যখন চেপে বসেছিল, সেই সময় কিন্তু এই ঘরে যারা উপস্থিত আছি তাদের নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়ে আমরা সংস্কার প্রস্তাব, আমাদের ৩১ দফা প্রস্তাব দেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছিলাম। এই ৩১ দফা হচ্ছে দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য।

এছাড়া ইফতারে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ।

0Shares

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ